Business

ঈদে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেল মোটেলে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

ঈদে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেল মোটেলে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
Sponsored

নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার-এ ব্যাপক পর্যটক আগমনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেলগুলোতে চলছে জোর প্রস্তুতি ও সাজসজ্জা। তবে এখনো সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণের অনুমতি না মেলায় সেখানে পর্যটন খাতে স্থবিরতা বিরাজ করছে।

Sponsored

পর্যটন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে ৬৫-৭০ শতাংশ হোটেল আগাম বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের আগে তা ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকায় দ্বীপের দেড় শতাধিক হোটেল-মোটেল খালি পড়ে আছে।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, পাশাপাশি ইনানী সৈকত, হিমছড়ি, মহেশখালী, কুতুবদিয়া এবং ডুলাহাজারা সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের বারবার টানে। ফলে এখন সারা বছরই পর্যটকের উপস্থিতি থাকে এই অঞ্চলে। এবারের ঈদেও তাই ব্যাপক পর্যটক আগমনের আশা করা হচ্ছে।

পর্যটন খাতের বিকাশে কক্সবাজারের অর্থনীতিও চাঙ্গা হয়েছে। শহর থেকে শুরু করে ইনানী, হিমছড়ি, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন পর্যন্ত গড়ে উঠেছে ছয় শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউজ ও সমসংখ্যক রেস্টুরেন্ট। এরমধ্যে একাধিক আন্তর্জাতিক মানের তারকা হোটেলও রয়েছে।

হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাসেম সিকদার বলেন, ‘বর্তমানে ৬৫-৭০ শতাংশ হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের আগে এটি ৮০ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করছি। দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।’

অন্যদিকে, সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সাবেক মেম্বার শামসুল আলম জানান, মাছ ধরা ও পর্যটন ব্যবসাই তাদের প্রধান জীবিকা। কিন্তু পর্যটক যাতায়াত সীমিত থাকায় দ্বীপবাসী ও বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলকারী জাহাজ মালিক সমিতির নেতা হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, একসময় এ রুটে ৭টি পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করত। এখন পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকায় পুরো খাত ক্ষতিগ্রস্ত। এই ঈদেও পর্যটকদের সেন্টমার্টিন যাতায়াতের অনুমতি না পাওয়ায় পর্যটকও ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ। উখিয়ার ইনানীতে অবস্থিত দ্যা ওয়েভ রিসোর্টের মালিক মেজর (অব.) তানভীর বলেন, সী-বিচ ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যিক মনোভাবের কারণে পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান। এ প্রসঙ্গে উখিয়া-টেকনাফ আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এতে দ্বীপবাসী, পর্যটক ও বিনিয়োগকারী সবারই উপকার হবে।’ কক্সবাজার সদর আসনের এমপি লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ‘জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নির্ভয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের আহ্বান জানাচ্ছি।’

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হয়রানি রোধে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, ‘সৈকতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পরিচ্ছন্ন রাখা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঈদে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এমনকি পুলিশের নিয়মিত ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।’

সব মিলিয়ে, অনুকূল পরিবেশ ও প্রস্তুতির কারণে এবারের ঈদে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নামবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। তবে সেন্টমার্টিনে যাতায়াত চালু না হলে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় এই দ্বীপ পর্যটনের বাইরে থেকেই যাবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।




Sponsored

Share this article

Related Articles