Health
হামে আক্রান্ত শিশুর যত্নের বিস্তারিত গাইড
Sponsored
হামে আক্রান্ত শিশুর যত্নের বিস্তারিত গাইড
Sponsored
হাম (Measles) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সাধারণত শিশুদের বেশি হয়, তবে বড়দেরও হতে পারে।
হাম এর লক্ষণ
- হাম হলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়ঃজ্বর (প্রথমে হালকা, পরে বেশি)
- কাশি
- নাক দিয়ে পানি পড়া
- চোখ লাল হয়ে যাওয়া (Conjunctivitis)
- মুখের ভিতরে ছোট সাদা দাগ (Koplik spots)
- শরীরে লালচে ফুসকুড়ি (rash) — প্রথমে মুখে, পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে
- দুর্বলতা ও ক্ষুধামফুসকুড়ির ধাপপ্রথমে মুখে ছোট লাল দাগ
- তারপর গলা → বুক → সারা শরীরে ছড়িয়ে প
- দাগগুলো একসাথে মিশে যেতে পারে
অন্যান্য লক্ষণ
- চোখ লাল ও পানি পড়া
- নাক দিয়ে পানি
- কাশি
- মুখের ভিতরে সাদা দানা (Koplik spots)
উচ্চ জ্বর👉 দেখতে অনেকটা “লালচে দানা দানা rash” এর মতো
🩺 প্রতিকার ও চিকিৎসা
হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, তবে সহায়ক চিকিৎসা খুব গুরুত্বপূর্ণঃ✔️ ঘরোয়া ও সাধারণ যত্ন
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে
- বেশি করে পানি/স্যালাইন/তরল খাবার খেতে হবে
- হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে
- চোখে সমস্যা হলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুতে হবে ✔️ ওষুধ (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী)জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল (Paracetamol)
- ভিটামিন A দেওয়া হয় (জটিলতা কমাতে)
প্রয়োজন হলে কাশি বা অন্যান্য উপসর্গের ওষুধ ⚠কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন?
- শ্বাস নিতে কষ্ট হলে
- খেতে না পারলে বা খুব দুর্বল হয়ে গেলে
- খিঁচুনি হলে
দীর্ঘদিন জ্বর না কমলে
প্রতিরোধ
- সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা
- MMR ভ্যাকসিন (Measles, Mumps, Rubella) দেওয়া জরুরি
আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা
হামের টিকার সময়সূচি (বাংলাদেশ)বাংলাদেশের EPI (Expanded Programme on Immunization) অনুযায়ীঃ👶 শিশুর টিকা
- ৯ মাস বয়স → MR (Measles-Rubella) ১ম ডোজ
- ১৫ মাস বয়সে → MR ২য় ডোজ
- বর্তমানে 6মাস হতে টিকা দেওয়া শুরু হবে
- এই টিকা শিশুকে Measles থেকে সুরক্ষা দেয়
১. ঘরোয়া যত্ন
- . ঘরোয়া যত্নশিশুকে পরিষ্কার, বাতাস চলাচলযুক্ত ঘরে রাখুন
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন
- অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন (সংক্রমণ ঠেকাতে)
২. খাবার ও পানি
- বারবার অল্প অল্প করে খাওয়ান
- মায়ের দুধ (শিশুর জন্য সবচেয়ে ভালো)
- তরল খাবারঃ
- স্যুপ
- ডাবের পানি
- ভাতের মাড় পানিশূন্যতা যেন না হয়
৩. ওষুধ (ডাক্তারের পরামর্শে)
- জ্বর কমাতে → Paracetamol
- ভিটামিন A (চোখ ও রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে)
প্রয়োজন হলে কাশির ওষুধ
❗ নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া উচিত না
৪. চোখ ও ত্বকের যত্ন
- চোখ পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে দিন
- রোদ/তীব্র আলো থেকে দূরে রাখুন
- ত্বক পরিষ্কার ও শুকনা রাখু
৫. বিপদের লক্ষণ (এগুলো হলে দ্রুত ডাক্তার দেখান)
- শ্বাসকষ্ট
- খিঁচুনি
- শিশু খেতে না পারা
- অতিরিক্ত দুর্বলতা
- কানে ব্যথা বা পুঁজ
- দীর্ঘদিন জ্বর থাকা
৬. যা করবেন না
- ধুলোবালি বা ঠান্ডা বাতাসে রাখা
- অপ্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া
- শিশুকে একা ফেলে রাখেবেন না।
👉 সংক্ষেপে: টিকা + সঠিক যত্ন = হামের ঝুঁকি অনেক কম
মুসাফির হেলথকেয়ার,বাংলাদেশ
Sponsored